মনের সুখে অথই জলে বাস

মনের
বাংলায় একটি বাগ্ধারা আছে— ‘অথই জলে পড়া’। এর অর্থ ভীষণ বিপদে পড়া। কোনো বিপদ নয়; ভারতীয় এক দম্পতি অথই জলে পড়েছেন মনের খায়েশে। বড় একটি নৌকা নিয়ে গৌরব গৌতম ও বৈদেহী চিতনাভিস সাগরে ভাসছেন তাদের একমাত্র কন্যা খেয়াকে নিয়ে। নৌকায়ও যে হতে পারে সুখের সংসার, সে কথাই জানালেন ওই ভারতীয় দম্পতি। ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন গৌরব গৌতম। অবসরের পর সব স্থাবর সম্পদ বিক্রি করে স্ত্রী আর একমাত্র কন্যাকে নিয়ে ২০২২ সাল থেকে সাগরে ভাসছেন। ‘রিভা’ নামের নৌকাটি লম্বায় ৩২ ফুট। এর ভেতরেই আছে জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছু। আছে দুটি শোবার ঘর, একটা রান্নাঘর ও বাথরুম। ৪২ বছর বয়সী গৌরব জানান, তিনি যতক্ষণ পানির উপর থাকেন, মনে হয়, বেঁচে আছেন। স্থলে, ইট-সিমেন্ট-কংক্রিটের বাসাবাড়িতে তার দম নিতে কষ্ট হয়। এদিকে তার স্ত্রী বৈদেহীও গণমাধ্যমে কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন। তার জীবনের একটাই ইচ্ছা, স্বাধীনভাবে বাঁচা। তাদের একমাত্র কন্যা খেয়ার ভালো লাগে না স্কুলে যেতে। তাই ২০২২ সালে এই পরিবার একটা নৌকা কিনে নিজেদের মতো করে গড়ে তুলে ভাসিয়ে দিয়েছেন সাগরে। কোনো দেয়াল নেই, নেই কোনো রুটিনের বেড়াজাল। কেবল চারপাশে সাগর, মাথার ওপর নীল আকাশ আর বিশুদ্ধ বাতাস। ২০২২ সালে গৌতম ও বৈহেদী দম্পতি তাদের বাড়ি, পারিবারিক সম্পত্তি, আসবাব— সব বিক্রি করে ১৯৮৮ সালে যুক্তরাজ্যে তৈরি একটি নৌকা কেনেন। সেটাকে নিজেদের মতো করে মেরামত আর সংস্কারও করেন। আসবাব, বই, জামাকাপড়সহ যেসব জিনিস নিয়ে তারা নৌকায় উঠেছেন, সব মিলিয়ে সেসবের ওজন মাত্র ১২০ কেজি! দ্য বেটার ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বৈদেহী বলেন, ‘আমরা শিখেছি, কীভাবে সবচেয়ে কম জিনিসে সবচেয়ে ভালোভাবে বাঁচা যায়। বাতাস আমাদের যেদিকে নিয়ে যায়, আমরা সেদিকেই যাই। ঘুম থেকে উঠে চোখ খুলে দেখি, কোথায় এলাম। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন দ্বীপে থামি। ঘুরে বেড়াই। মেয়ে গাছের সঙ্গে দড়ি বেঁধে দোলনা বানিয়ে দোল খায়। ফলমূল সংগ্রহ করি। আবার নৌকায় উঠে পড়ি।’ বৈদেহী আরো জানান, তারা সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে আলো জ্বালেন। সংগ্রহ করেন বৃষ্টির পানি। মাছ ধরেন। নৌকার প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান। কয়েক মাস পর কোনো এক বন্দরে থেমে চা, নুন, মসলা ও তেলের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে নেন। গৌরব আর বৈভবী মনে করেন, তাদের ১৪ বছর বয়সী কন্যা স্কুলের তুলনায় ভালোই শিখছে। কেননা, সে জানে সাগরে ঝড় উঠলে কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়। দুটি টি-শার্টে চালিয়ে দেওয়া যায় মাসের পর মাস। দুই বছরে সাগরে দিকনির্ণয় করে চলা, বাতাসকে ব্যবহার করা, পানিতে নেমে সামুদ্রিক প্রাণীদের সঙ্গে সাঁতার কাটা, সাগরে মাছ ধরায় সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠেছে সে। এই তিনজনের কেউই স্থলের জীবন মিস করছেন না মোটেও। আপাতত স্থলে ফেরার কোনো ইচ্ছাও নেই তাদের। সূত্র: বেটার ইন্ডিয়া। আমারবাঙলা/এমআরইউ

Join Telegram

Post a Comment

Previous Post Next Post

Popular Items