ট্রাম্পের কার্টুন না ছাপায় চাকরি ছেড়েছেন ওয়াশিংটন পোস্টের কার্টুনিস্ট

ট্রাম্পের
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী কার্টুনিস্ট অ্যান টেলনেস চাকরি ছেড়েছেন। তিনি একটি ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন আঁকেন যা প্রকাশ করতে রাজি হয়নি পত্রিকাটি। এটিই কারণ তার চাকরি ছাড়ার। ওই কার্টুনে, ওয়াশিংটন পোস্টের মালিক জেফ বেজোসসহ বিভিন্ন মিডিয়া এবং প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বদের ট্রাম্পের প্রতি নতজানু অবস্থায় চিত্রিত করা হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সাবস্ট্যাকে শেয়ার করা এক অনলাইন পোস্টে অ্যান টেলনেস তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমি যত কার্টুন জমা দিয়েছি, সেগুলোর বিরুদ্ধে কখনো আমার কোনো কার্টুন খারিজ হয়নি, কিন্তু এবার তা হয়েছে। তিনি আরো জানান, তার কার্টুনটি কখনো কাউকে বা কোনো কিছুকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য হয়নি, বরং এটি ছিল একটি সাধারণ ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন পোস্টের মতামত সম্পাদক ডেভিড শিপলি টেলনেসের কার্টুনটি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত কোনো অশুভ শক্তির প্রতিফলন নয়। তিনি টেলনেসকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, তারা আরেকটি কলাম প্রকাশ করার জন্য প্রস্তুত ছিল। টেলনেস তার সাবস্ট্যাক অ্যাকাউন্টে কার্টুনটির খসড়া প্রকাশ করেছেন, যেখানে দেখা যায়, বেজোস, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের মালিক প্যাট্রিক সুন-শিয়ং এবং ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানির মাসকট মিকি মাউস ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছেন। টেলনেস বলেছেন, এই কার্টুনটি মূলত প্রযুক্তি ও মিডিয়া সেক্টরের ধনী নির্বাহীদের সমালোচনা করার উদ্দেশ্যে ছিল, যারা ট্রাম্পের আনুকূল্য পেতে মরিয়া। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের আপত্তি বা সংশোধনের অনুরোধ করা সাধারণ হলেও, এই কার্টুনের ক্ষেত্রে তা হয়নি, যা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য বিপজ্জনক একটি পরিস্থিতি তৈরি করছে। টেলনেসের পদত্যাগের ঘটনা এমন সময়ে ঘটেছে যখন ওয়াশিংটন পোস্ট এবং বেজোস কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন। গত নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে, ওয়াশিংটন পোস্ট কমলা হ্যারিসকে সমর্থন জানিয়ে কোনো সম্পাদকীয় প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। একইভাবে, সুন-শিয়ংও লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের সম্পাদকীয় বোর্ডকে হ্যারিসের সমর্থনে কোনো সম্পাদকীয় প্রকাশ করতে দেননি। এভাবে, একদিকে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এবং অন্যদিকে প্রকাশনা সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। আমারবাঙলা/এমআরইউ

Join Telegram

Post a Comment

Previous Post Next Post

Popular Items